● ক্যাশ অন ডেলিভারি 📞 হটলাইন ০১৩৩৯-৩২৯৬৪৫
eShalban

মা হওয়ার পর মানসিক স্বাস্থ্য: পোস্টপার্টাম সাইকোসিস কী, লক্ষণ ও করণীয়।

মা হওয়া মানেই কি শুধুই পরম সুখ আর আনন্দের জোয়ার?
সন্তান জন্মদান একজন নারীর জীবনের অন্যতম সুন্দর মুহূর্ত হলেও, সবার ক্ষেত্রে তা কেবলই আনন্দের হয় না। অনেক মা তার সদ্যভূমিষ্ট শিশুকে আপন করে নেওয়ার বদলে শত্রু মনে করে বসেন। সন্তান জন্মের পর অনেক মা ভয়াবহ এক মানসিক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘পোস্টপার্টাম সাইকোসিস’ (Postpartum Psychosis) বলা হয়। এটি কোনো অবহেলা, ইচ্ছাকৃত আচরণ বা পাগলামি নয়; বরং এটি একটি অত্যন্ত জটিল মেডিকেল ইমার্জেন্সি, যার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

পোস্টপার্টাম সাইকোসিসের জরুরী লক্ষণগুলো কী কী?

নতুন মায়েদের মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া জরুরি:

  • ক্ষতিকর চিন্তা: নিজের বা সদ্যোজাত সন্তানের ক্ষতি করার চিন্তা মাথায় আসা বা ইচ্ছা জাগা।তীব্র বিষণ্ণতা ও মুড সুইং: অস্বাভাবিক মেজাজ পরিবর্তন, প্রচণ্ড বিষণ্ণতা বা পাগলামি ভাব দেখা দেওয়া।ভয় ও অপরাধবোধ: অকারণে প্রচণ্ড ভয় পাওয়া, দুঃশ্চিন্তা করা বা নিজেকে অপরাধী মনে করা।অবাঞ্ছিত ধারণা: অদ্ভুত সব চিন্তা-ভাবনা বা মনের মধ্যে অবাস্তব ও অবাঞ্ছিত ধারণা আসা।তীব্র অনিদ্রা: অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের সমস্যা বা দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে থাকা।অনীহা ও বৈরাগ্য: পরিবার, বন্ধুবান্ধব বা নিজের সন্তানের প্রতি সম্পূর্ণ অনীহা প্রকাশ করা।

  • কেন এমন মানসিক সমস্যা দেখা দেয়?

পোস্টপার্টাম সাইকোসিস হওয়ার পেছনে বেশ কিছু জটিল কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:

  • গর্ভাবস্থা ও প্রসবের পর হরমোনের আকস্মিক ও ব্যাপক পরিবর্তন।প্রসবজনিত প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি।পূর্বে মানসিক সমস্যার (যেমন: বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা ডিপ্রেশন) ইতিহাস থাকা।পারিবারিক বা বংশগত কারণে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি।

  • এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন? (চিকিৎসা ও করণীয়)
  • ডাক্তার দেখান: এমন লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও কালক্ষেপণ না করে দ্রুত একজন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। এটি একটি ইমার্জেন্সি পরিস্থিতি।কথা বলুন: নিজের অনুভূতিগুলো চেপে রাখবেন না। পরিবারের সদস্যদের সাথে বা বিশ্বস্ত কোনো বন্ধুর সাথে আপনার মনের কথা শেয়ার করুন।সহায়তা নিন: আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুদের সাহায্য নিতে একেবারেই দ্বিধা করবেন না। বাচ্চার যত্ন নেওয়া বা ঘরের কাজে অন্যদের সাহায্য চাইলে মায়ের মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।নিজের যত্ন নিন: পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং হালকা ব্যায়াম মায়ের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

  • শেষ কথা

একজন মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখা সন্তান ও পরিবারের জন্য অপরিহার্য। একটু সচেতনতা, পারিবারিক সমর্থন ও ভালোবাসা একজন মাকে এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি শেয়ার করে অন্যদেরকেও সচেতন করুন, কারণ আপনার একটি শেয়ার হয়তো কোনো মায়ের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

🛒 0
💬 🗨
Scroll to Top
0